উত্তম চরিত্র ও সদগুণাবলী


অতীব জরুরি কিছু গুণাবলী

কোরআন ও হাদীসে সকল প্রকার মানবীয় গুণাবলী ও সুকুমার বৃত্তিসমুহের বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে। সর্ব রকম কদাচার ও অনাচার থেকে বেঁচে থাকারও সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিবৃত হয়েছে। এখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সচ্চরিত্র ও সদগুণ উল্লেখ করা হচ্ছে, যেগুলো ব্যতীত কেউ নিজেকে সত্যিকারের মুসলমান দাবি করতে পারে না।

১. সততা ও সত্যবাদিতা

সততা ও সত্যবাদিতার এত গুরুত্ব যে, ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মানুষ শুধু সত্য বলেই ক্ষান্ত হবে না, বরং সত্যবাদী সাধুসজ্জন ওলী-বুযুর্গের সান্নিধ্যও গ্রহণ করবে। আল্লাহ পাক বলেন,


হে ঈমান-অলা বান্দারা! আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাহচর্য অবলম্বন করো। সূরা তওবা ৯/১১৯

অন্য এক হাদীসে এসেছে,

সততা অবলম্বন করো, যদিও বাহ্যিকভাবে তাতে নিজের সমূহ ক্ষতি এমনকি যদি মৃত্যু লক্ষ করো তবু। কেননা প্রকৃত মুক্তি এবং আসল জিন্দেগী সততার মাঝে নিহিত। আর মিথ্যাবাদিতা পরিহার করো, যদিও সাধারণ চোখে তাতে নিজের মুক্তি ও নিষ্কৃতি দেখতে পাও। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে মিথ্যার সাথে ব্যর্থতা আর অশুভ পরিণাম ছাড়া কিছুই নেই।

অন্য হাদীসে এসেছে,


কোন এক ব্যক্তি নবীজীর কাছে জানতে চাইলো, মোমিন ব্যক্তি কি ভীরু হতে পারে? নবীজী বললেন, হ্যাঁ হতে পারে। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলো, মোমিন কি কৃপণ হতে পারে ? বললেন, হ্যাঁ। আবার জিজ্ঞেস করলো, মোমিন কি মিথ্যুক হতে পারে? নবীজী বললেন, না। মিথ্যা কোনো মোমিনের স্বভাব-দোষ হতে পারে না। মুআত্তা, হাদীস নং ৩৬৩০

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সর্বদা সত্য বলার তাওফীক দান করুন, যে সত্য মুক্তি দেয়, জান্নাতে পৌছে দেয় এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের ভালোবাসার পাত্র বানায়। আর আমাদেরকে আল্লাহ তাআলা চিরতরে মিথ্যা পরিত্যাগ করার শক্তি দান করুন, যে মিথ্যা সর্বনাশের প্রতীক, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অসন্তুষ্টির কারণ এবং অভিশপ্ত মোনাফেকের নিদর্শন।

২. কথা দিয়ে কথা রাখা

ওয়াদা রক্ষা করা এবং কথা দিয়ে কথা রাখা সততারই একটি বিশেষ শাখা। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,


কাউকে ওয়াদা দিয়ে থাকলে তা রক্ষা করবে, নিশ্চই কেয়ামতের দিন ওয়াদা পুরণ করা না করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সূরা বনি ইসরাঈল ১৭/৩৪

কোরআন শরীফের অন্য জায়গায় নেকী ও নেককারের গুণাবলীর আলোচনায় আল্লাহ পাক বলেন,


এবং আল্লাহ পাকের দরবারে নেককার তারা, যারা কথা দিলে কথা রাখে। সূরা বাকারা ২/১৭৭

নবীজী তার অধিকাংশ ভাষণে বলতেন,


যে ব্যক্তি কৃত ওয়াদার বরখেলাপ করে তার মাঝে দীনধর্মের কোন বালাই নেই। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১২৩৮৩

একটি হাদীসে নবীজী এরশাদ করেন,

মোনাকে-কাফেরের আলামত তিনটি, মিথ্যা বলা, ওয়াদা খেলাপ করা, আমানতের খেয়ানত করা। সহীহ বোখরী, হাদীস নং ৩৩

অর্থাৎ যেন ওয়াদা খেলাপি ঈমানদারই নয়। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এই মন্দ স্বভাব থেকে হেফাজত করুন।

৩. আমানতদারি

সততার আরেকটি অঙ্গ হলো আমানতদারিতা। আল্লাহ পাক বলেন,

মহান আল্লাহর পক্ষ হতে এই হুকুম হচ্ছে যে, তোমরা আমানতকারীর আমানত তার কাছে ফিরিয়ে দাও। সূরা নিসা ৪/৫৪

কোরআন শরীফের অন্য জায়গায় ঈমানদারের গুণাবলী উল্লেখ করে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

ঈমানদার তারা, যারা তাদের নিকট গচ্ছিত আমানত এবং তাদের কৃত ওয়াদার হেফাজত করে। সূরা মুমিনূন ২৩/৮

নবীজী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রায় খোতবায় বলতেন,

ওহে! যার ভিতর আমানতদারির গুণ নেই, তার ভিতর ঈমানও নেই। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১২৩৮৩

একটি হাদীসে এসছে, হযরত ওমর বলতেন,

কেউ ভালো কি মন্দ এই ধারণা অর্জনের জন্য কেবল তার নামায-রোযা আর সামাজিক মর্যাদা দেখেই তুষ্ট হয়ে যেও না, বরং লক্ষ করো, তার রাত-দিন কিভাবে কাটে, কোথায় যায় কোথায় থাকে, সে কথায় সত্যবাদী কি না, তার কাছে আমানত রাখা হলে বা লেনদেন করলে ঠিকঠিক আদায় করে কি না বা সফরে-সংকটে সৎ চরিত্রের পরিচয় দেয় কি না। আল কেফায়া খতীব বাগদাদী ১/৮৩


৪. ইনসাফ ও ন্যায়বিচার

কাজেকর্মে ন্যায়নিষ্ঠ হওয়া ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোরআন শরীফে এসেছে,

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই ন্যায়বিচার ও সদাচারের আদেশ দিয়ে থাকেন। সূরা নাহল ১৬/৯০

ইসলামের ন্যায়বিচার শুধু মুসলমানদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের জন্য এমনকি জান, মাল ও ঈমানের দুশমন তার জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে চলমান বিরোধ কখনো যেন তোমাদেরকে এতটা উত্তেজিত না করে যে, তোমরাও ন্যায়বিচার থেকে সরে যাবে। বরং সর্বাবস্থায় তোমরা ন্যায়নীতির উপর অবিচল থাকবে, এটাই খোদা-ভীতির দাবী। সূরা মায়েদা ৫/৮

উক্ত আয়াতে যুদ্ধরত শক্রর সঙ্গেও কোনো প্রকার ন্যায়বিচার বিরোধী আচরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এ থেকেই সাধারণ অবস্থায় ভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে কেমন ন্যায়ানুগ আচরণ করতে হবে তা সহজেই অনুমেয়। হাদীস শরীফে নবীজী ইরশাদ করেন,

কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সবচে’ বেশি নৈকট্য প্রাপ্ত এবং প্রিয়পাত্র হবে ন্যায়পরায়ন শাসক। অন্যদিকে জালিম শাসক হবে সবচে’ বেশি নৈকট্য-বঞ্চিত এবং কঠিন শাস্তিতে নিপতিত।

একদিন সাহাবায়ে কেরামকে নবীজী জিজ্ঞেস করলেন,


তোমরা কি বলতে পারো, কেয়ামতের রৌদ্রকঠোর দিনে কোন ধরণের লোক সর্বপ্রথম রহমতের শামিয়ানায় স্থান পাবে? সাহাবারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন, সুতরাং আপনিই বলুন, কোন সে খোশনসীব, যে সবার আগে রহমতের ছায়াতলে স্থান পাবে! নবীজী ইরশাদ করলেন, এমন লোক তারা, যারা নিজেদের হক দেয় হলে নির্মোহভাবে গ্রহণ করে আর অন্যের হক তলব করা হলে খোলামনে আদায় করে দেয়, ইনসাফের সাথে নিজদের বিষয়ে যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, অন্যের বেলায়ও তেমন ফয়সালা করে। (আপন আর পর বলে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।) মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২৪৩৭৯


৫. দয়াদ্রতা ও ক্ষমাশিলতা

কেউ ভুল করে ফেললে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং দুঃখী মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। নবীজী বলেন

তোমরা আল্লাহ তাআলার অসহায় বান্দাদের সাঙ্গে দয়ার আচরণ করো, তোমাদের প্রতিও সদয় আচরণ করা হবে। অন্যের দোষ-ক্রটি ক্ষমার চোখে দেখো, তোমাদের ভুল ক্রটিও আল্লাহ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৭০৪১

অন্য এক হাদীসে নবীজী বলেন

যে ব্যক্তি কাউকে ক্ষমা করে না, কারো প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তাকে ক্ষমা করেন না, তার প্রতি দয়া করেন না। সহীহ বোখারী, হাদীস নং ৫৯৯৭

আরেকটি হাদীসে নবীজী এরশাদ করেন,

রহমকারীদের প্রতি রহমান আল্লাহ করুণা ও রহম করে থাকেন। সুতরাং জমিনের বাসিন্দাদের প্রতি দয়ামায়া করো, আসমান ওয়ালা তোমাদের প্রতি দয়া ও করুণা প্রদর্শন করবেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৯২৪

এই হাদীসগুলি থেকে বোঝা যায়, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি এমনকি পৃথিবীতে বিচরণশীল প্রতিটি জীবের প্রতি ইসলাম সহানুভূতিশীল হওয়ার কথা বলে (যদি তার প্রতি করুণা সমাজের জন্য ক্ষতিকর না হয়)। নবীজী বলেন,

এক ব্যক্তি প্রচ- পিপাসার্ত অবস্থায় একটি কুয়া পেলো। সে কুয়াতে নেমে পানি পান করলো। বের হয়েই দেখতে পেলো, একটি কুকুর পানি না পেয়ে প্রচ- পিপাসায় ভিজা মাটি চাটছে। সে ভাবলো, আমার মতো কুকুরটিও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েছে। লোকটি দয়াপরবশ হয়ে আবার কুয়ায় নামলো এবং নিজের চামড়ার মুজায় পানি ভরে এনে কুকুরটিকে খাওয়ালো। এর ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে করে দিলেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৬৬

বড় আক্ষেপের বিষয়, আজ আমাদের মাঝ থেকে দয়ামায়া ও সমবেদনার গুণ উঠে গেছে। ফলে আমরাও আল্লাহ তাআলার রহমত লাভের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছি।

৬. নম্রতা ও কোমলতা

ইসলাম সকল আচরণে কোমলতা শিক্ষা দেয়। নবীজী ইরশাদ করেন,

যে ব্যক্তি মানুষের নিকট সবসময় সহজ-কোমল সুহৃদ আচরণে অভ্যস্ত, তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৩৯৩৮

আরেক হাদীসে নবীজী বলেন,

আল্লাহ তাআলা নিজে সহজ আচরণ করে থাকেন, বান্দাদের থেকেও তিনি সহজ আচরণের বহিঃপ্রকাশ পছন্দ করেন। আর কোমলতাময় কাজে যে পরিমাণ বরকত দান করেন, কঠোরতাপূর্ণ কাজে সে পরিমাণ দান করেন না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৯৩

৭. ধৈর্য ও সহনশিলতা

অন্যের দুর্ব্যবহারে ধৈর্য ধারণ করা এবং ক্রোধের সময় আত্মসংবরণ করা মহত্বের লক্ষণ। আল্লাহ ও তার রাসুলের নিকট এমন মানুষ বড়ই মর্যাদাবান। এদের জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও তার বাগবাগিচাগুলো সাজিয়ে রেখেছেন। ইরশাদ করেন,

(জান্নাতী মানুষ তারা) যারা গোসসা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মানুষের ক্রটি ও কসুর ক্ষমা করে দেয়। সূরা আলে ইমরান ৩/১৩৪

৮. মিষ্টি ভাষা ও সদালাপ

সদালাপকারী ও মিষ্টভাষী হওয়া খুবই কাম্য বিষয়। আর অশ্লীল ও কর্কশ ভাষা একান্তই ঘৃণ্য ও পরিত্যাজ্য বিষয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে (সহাস্য বদনে) কথা বলো। সূরা বাকারা ২/২৩

নম্রকোমল ভাষা সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। আর রুক্ষ ও রূঢ় ভাষা দুষ্কর্মের অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে এসেছে,

ভদ্র ও মার্জিত ভাষায় কথাবার্তা বলাও একটি সাদকাতূল্য সওয়াবের বিষয়। সহীহ বোখারী, হাদীস নং ২৮৯১

৯. বিনয় ও আত্মবিলোপ

সকল মানুষ বিনয়ী হোক, প্রতিটি নাগরিক অপর নাগরিককে নিজের তুলনায় অধিক শ্রদ্ধাভাজন বলে ভাবতে শিখুক, অহমিকা ও দাম্ভিকতা বিলুপ্ত হোক, আমাদের জীবন থেকে দূর হয়ে যাক সর্বনাশা অহংকার, বিনয় হোক আমাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্যের অংশ। আল্লাহ পাক বলেন,

পরজগতের সে নিলয় আমি রচনা করেছি তাদের জন্য, যারা ইহজগতে বড়াই করে বেড়ায় না, (রেষারেষি জিইয়ে রাখে না)। সূরা কাসাস ২৮/৮৩

অন্য আয়াতে এসেছে ,

দয়াময় আল্লাহর খাঁটি বান্দা তারা, যারা নিরহংকার ভঙ্গিতে পথ চলে। সূরা ফুরকান ২৫/৬৩

নবীজী এরশাদ করেন,

যে ব্যক্তি আত্মবিলোপের নীতি এখতিয়ার করবে, আল্লাহ পাক তাকে এত উচ্চ মর্যাদা দান করবেন যে, জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম ‘ইল্লিইয়ীনে’ তাকে পৌঁছে দেবেন। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১১৭২৪

বিনয়ের বিপরীত বিষয় অহংকার। এটা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নিকট খুবই জঘণ্য। হাদীস শরীফে এসেছে,

অহংকার এত মারাত্মক দোষ যে, কারো ভিতর সামান্য শরিষাদানা সমান এই দোষ থেকে গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯১


১০. হিম্মত ও ধৈর্য

এই দুনিয়াতে কখনো আসে রোগ-শোক, কখনো দেখা দেয় বিপদ-মুসিবত। কখনো জালিমের জুলুম-নির্যাতন, কখনো বা অভাব-অনটন। এমতাবস্থায় ইসলামের বিশেষ শিক্ষা এই যে, যত প্রতিকূলতা আসুক আর যত কঠিন পরিস্থিতির উদ্ভব হোক, মুমিন মাত্রই ধৈর্য, দৃঢ়তা ও বাহাদুরির সঙ্গে সময়কে অতিক্রম করবে এবং কিছুতেই সে ধৈর্যহারা হবে না, ভেঙ্গে পড়বে না। আল্লাহ তাঁর ঐ বান্দাদের খুবই পছন্দ করেন, যারা ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেষ্ট থাকে।

আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন,


নিশ্চয়ই দয়ালু আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। সূরা বাকারা ২/১৫৩

একটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা পূণ্য কর্মের বর্ণনায় বলেন,

(এগুলি অনেক বড় পূণ্যের বিষয় যে,) লোকেরা রোগে-শোকে ছবর করবে, অভাব-অনটনে ধৈর্য ধারণ করবে এবং যুদ্ধকালে অবিচল থাকবে। মূলত এমন লোকেরাই সত্যিকারের মুমিন ও মুত্তাকি নামে অভিহিত হবার যোগ্য। সূরা বাকারা ২/১৭৭

হাদীস শরীফ এসেছে,


দুর্যোগের সময় ছবর করতে পারার মতো উত্তম ও বড় নেয়ামত কেউ প্রাপ্ত হয়নি। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৫৩

১১. এখলাছ ও বিশুদ্ধ নিয়ত

কর্মের পরম উদেশ্যটুকু সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলাকে নিবেদন করার নাম হলো এখলাছ। অর্থাৎ যে কাজই আমরা করবো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিকে সামনে রেখে করবো, প্রবৃত্তিকে কখনো আমলে নিবো না। মনে রাখতে হবে, ইসলাম ধর্মের মূল হলো ‘তাওহীদ’ তথা একত্ববাদ। আর তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করে এই প্রকারের এখলাস দ্বারা। তাই এখলাসকে ইসলামের রূহ বলা হয়। নবীজী ইরশাদ করেন,

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একজনকে মুহাব্বত করলো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই অন্যজনকে অপছন্দ করলো, এবং দান করলো আল্লাহর জন্য, বিরতও থাকলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, সে তার ঈমান ও তাওহীদকে পরিপূর্ণ করে নিলো। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৮১

অর্থাৎ যে ব্যক্তি সম্পর্কের সকল সূত্রে এবং সবধরনের আদান প্রদানে ব্যক্তিগত কোন মতলব বা লাভালাভ নয়, বরং আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টিকেই মুখ্য বিবেচনা করে, সে ব্যক্তি তাওহীদের হক আদায়কারী পূর্ণ মুমিন। হাদীস শরীফ এসেছে,

আল্লাহ পাক তোমাদের অবয়ব-আকৃতি দিকে লক্ষ করেন না, লক্ষ করেন তোমাদের অন্তরে প্রচ্ছন্ন এখলাছের দিকে। মুসলিম, হাদীস নং ২৫৬৪

অর্থাৎ এখলাছ অনুপাতে তোমরা আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি ও ছওয়াব লাভ করবে। একটি হাদীসে এসেছে,

(লোকসকল! নেক আমলে এখলাছ আনার চেষ্টা করো।) আল্লাহ পাক তো ঐ আমলই কবুল করেন, যাতে এখলাছের সুবাস রয়েছে। যাতে কেবল তাঁর সন্তুষ্টি সন্ধান করা হয়েছে। সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৩১৪০


Post a Comment

0 Comments