সময় ব্যবস্থাপনা হলো একটি পরিকল্পনা প্রক্রিয়া, যা দিয়ে ঠিক করা হয় কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে কতটুকু সময় ব্যয় করা উচিত। সঠিক সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে পারেন এবং কম মানসিক চাপে ক্যারিয়ারের উন্নতির পথে হাঁটতে পারেন।
আসলে সময় ব্যবস্থাপনার হলো বেশ কিছু গুণ ও অভ্যাসে সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দক্ষতা, যা আমাদের ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনের কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোর উপায়—
১. সঠিকভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা
স্মার্ট (SMART) মেথডে লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।Specific = সুনির্দিষ্টMeasurable = পরিমাপযোগ্যAttainable = অর্জনযোগ্যRelevant = প্রাসঙ্গিকTimely = সময়ের কাজ সময়ে
২. কাজের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি
৩. ডিজিটাল ক্যালেন্ডার বা নোটবুক ব্যবহার
৪. সময়সীমা নির্দিষ্টকরণ এবং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
৫. কাজের মধ্যে বিরতি নেওয়া
৬. কাজ জমিয়ে রাখার অভ্যাস পরিত্যাগ করা
৭. আগে থাকতেই পরিকল্পনা তৈরি করে রাখা
১. ডায়রি, ফোন অথবা মাইক্রোসফট অফিস আউটলুক (MS Outlook) ব্যবহার করে গুরুত্ব অনুযায়ী দৈনান্দিন কার্যতালিকা তৈরি করুন। চাইলে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারেন।
২. বড় বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট করে ভাগ করুন এবং একটা একটা করে করুন।
৩. কোন কাজের জন্য কতটুকু সময় ব্যয় করবেন তার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করুন।
৪. একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটিই মাত্র কাজ করুন।
৫. যেকোন কাজ সুসম্পন্ন করতে সঠিক পার্টনার খুঁজুন এবং তাকেও কিছু দায়িত্ব দিন। অন্যকে দায়িত্ব দেয়া মানে দুর্বলতা নয়, এটা বুদ্ধিমত্তার সংকেত।
৬. নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোকে গ্রহণ করুন এবং যা আপনার পক্ষে করা সম্ভব তার প্রতি যৌক্তিক প্রত্যাশা রাখুন।
৭. কাজে নিখুঁত হওয়া নয় চেষ্টা করুন যৌক্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা অর্জনের।
৮ . পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন তাতে করে নতুনভাবে কাজের উদ্যম ফিরে পাবেন।
৯. কোন কাজ সুসম্পন্ন হলে কিছুটা সময় নিয়ে তার আনস্দ উপভোগ করুন।
সময় তরবারির মতো। তুমি তাকে হত্যা না করলে সে তোমাকে হত্যা করবে।’ অর্থাৎ সময়কে কাজের মাধ্যমে ব্যয় না করলে সে তোমাকে অনর্থক কাজে ব্যস্ত করে রাখবে।
তুমি নিজেকে সত্যের কাজে ব্যস্ত না রাখলে তুমি মিথ্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) বলেছেন, ‘আমি ওই দিন বেশি লজ্জিত হই যেদিন সূর্য উদিত হয়েছে এবং আমার নির্ধারিত সময় কমেছে। কিন্তু আমার আমল বৃদ্ধি পায়নি।
রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তোমরা পাঁচটি জিনিসকে তার বিপরীত পাঁচটি জিনিসের পূর্বে মূল্যায়ন করবে ও সদ্ব্যবহার করবে। প্রথমত তোমার যৌবনকে বার্ধক্যে আসার আগে, সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে, সচ্ছলতাকে দরিদ্রতার আগে, অবসরকে ব্যস্ততার আগে এবং জীবনকে মৃত্যুর আগে’
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কাজেই যখনই অবসর পাও ইবাদতের কঠোর শ্রমে লেগে যাও। এবং নিজের রবের প্রতি মনোযোগ দাও।’ (সূরা ইনশিরাহ : ৭-৮)
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদিগকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে, যতক্ষণ না তোমরা সমাধিগুলো দেখতে পাও (তোমাদের মৃত্যু হয়)। এটি কখনো সংগত নয়! অচিরেই তোমরা জানতে পারবে।
সময় সোনার চেয়েও মূল্যবান : সময় সবকিছুর তুলনায় দামি। এ কারণেই জীবনের অন্তিম মুহূর্তে এসে মানুষ আফসোস করে, যদি আরেকটুখানি সময় দেওয়া হতো তাকে! এরশাদ হচ্ছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্তুতি যেনো তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে। যারা উদাসীন হবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি, মৃত্যু আসার পূর্বে তোমরা তা হতে ব্যয় করবে। অন্যথায় সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে আরও কিছুকালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সুরা মোনাফিকুন : ৯-১০)।
রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার ওপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা নারীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহতায়ালা তাদেরকে জমিনে ধসিয়ে দেবেন এবং তাদের কিছু লোককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০২০)।
Tag-#আমার ইসলাম
#ইসলামিক বাণী
#ইসলামিক বানী
#ইসলামিক জীবন
#ইসলামিক বানি
#porda niye status
#islamic jibon
#সূরা আল আসর

0 Comments