নবীজির সুন্নত (৩য় পাঠ)


পুর্ববর্তী পাঠ দেখতে ক্লিক করুন

 ৯. জুতা খোলার সময় প্রথমে বাম পা থেকে অতঃপর ডান পা থেকে খোলা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৮৫৫)

মসজিদে প্রবেশের সুন্নাতসমূহ

 ১. বিসমিল্লাহ পড়া। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৬৪৭৩ আমলুল্‌ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাঃ নং ৮৮)

 ২. দরূদ শরীফ পড়া। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৬৪৭২)

 ৩. অতঃপর এই দু‘আ পড়া :  اللهم افتح لى ابواب رحمتك (মুসলিম, হাঃ নং ৭১৩)

 উল্লেখিত দু‘আ সমূহ একত্রে এভাবে পড়া যায়-  بسم الله والصلوة والسلام على رسول الله اللهم افتح لى ابواب رحمتك

৪. মসজিদে ডান পা আগে রাখা।(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৪২৬)

 ৫. মসজিদে প্রবেশ করে ই‘তিকাফের নিয়ত করা। (শামী, ২ : ৪৪৩/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২০৪২)

 বি.দ্র. মসজিদে প্রবেশের সময় প্রথমে বাম পায়ের জুতা খুলে জুতার উপর বাম পায়ে দাঁড়াবে অতঃপর ডান পায়ের জুতা খুলে দু‘আসমূহ পড়ে তারপর প্রথমে ডান পা মসজিদের ভিতরে রাখবে।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাতসমূহ

 ১. বিসমিল্লাহ পড়া। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৬৪৭৩)

 ২. দরূদ শরীফ পড়া।(মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৬৪৭২)

 ৩. অতঃপর এই দু‘আ পড়া :  اللهم انى اسئلك من فضلك (মুসলিম, হাঃ নং ৭১৩)

উল্লেখিত দু‘আ সমূহ একত্রে এভাবে পড়া যায় :  بسم الله والصلوة والسلام على رسول الله اللهم انى اسئلك من فضلك

এ দু‘আ গুলো বের হওয়ার পূর্বেই পড়বে।

 ৪. মসজিদের বাইরে (জুতার উপর) বাম পা আগে রাখা।  (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাঃ নং ৭৯১)

 ৫. অতঃপর প্রথমে ডান পায়ে জুতা পরা। তারপর বাম পায়ে পরা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৮৫৫)

আযানের সুন্নাতসমূহ

 ১. পাক-পবিত্র অবস্থায় আযান দেয়া। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১৭৯৯)

 ২. কিবলামুখী হয়ে আযান দেয়া এবং উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রেখে কিবলামুখী করে রাখা।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৫০৭/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১৮০২)

 ৩. ক. প্রথম দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা।

 খ. অতঃপর দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা।

 বি.দ্র. উল্লেখিত তাকবীরসমূহের প্রত্যেকটির শেষে সাকিন করা, অর্থাত ‘আল্লাহু আকবারুল্লাহু আকবার’ এভাবে না বলা।

 (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ২৩৭৭)

 গ. অতঃপর মাঝের বাক্যগুলির মধ্য হতে এক একটি বাক্য এক শ্বাসে বলা এবং প্রত্যেক বাক্যের শেষে সাকিন করা ও থামা।

 (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ২৩৭৭)

 ঘ. শেষের দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা ও উভয় তাকবীরের শেষে সাকিন করা।

 ঙ. সর্বশেষে লা-ইলা-হা-ইল্লাল্লাহ বলে আযান শেষ করা। (নাসায়ী, হাঃ নং ৬৫২)

 উল্লেখ্য, এক এক বাক্য বলে থামার পর এ পরিমাণ বিরতি দেয়া, যাতে পঠিত বাক্যটি একবার পড়া যায়; অর্থাত শ্রোতাগণ যেন উক্ত সময়ে আযানের জওয়াব দিতে পারেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ২২৩৪)

 ৪. ডান দিকে চেহারা ফিরানোর পর ‘হাইয়া আলাসসালাহ’ বলা এবং বাম দিকে চেহারা ফিরানোর পর ‘হাইয়া আলাল ফালাহ্’ বলা। কিন্তু বুক ও পা কিবলার দিক থেকে ফিরাবে না। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩৪)

 ৫. মহল্লার প্রথম আযান শ্রবণের সাথে সাথে আযান শেষ হওয়া পর্যন্ত শ্রোতাগণের তিলাওয়াত, যিকির, তাসবীহ ইত্যাদি বন্ধ করে দেয়া। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১৮৪৯)

 ৬. আযানের জওয়াব দেয়া। অর্থাত মুআজ্জিনের আযানের বাক্য উচ্চারণের ফাঁকে ফাঁকে শ্রোতাগণের হুবহু আযানের শব্দগুলোই বলা। তবে ‘হাইয়া আলাসসালাহ’এবং‘হাইয়া আলাল ফালাহ্’ বলার পর জওয়াবে ‘লা -হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলা। আর ফজরের আযানে ‘আসসালাতু খইরুম মিনান নাউম’ এর জওয়াবে ‘সদাক্বতা ওয়া বারারতা’ বলা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬১১-৬১৩/ মুসলিম হাঃ নং ৩৮৫)

 ৭. আযান শেষে দরূদ শরীফ পড়া। (মুসলিম, হাঃ নং ৩৮৪)

 ৮. অতঃপর এই দু‘আ পড়া : اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلوة القائمة ات محمدن الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمود الذى وعدته انك لاتخلف الميعاد

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬১৪, ৪৭১৯/ বাইহাকী হাঃ নং ১৯৩৩)

 বি.দ্র. আযানের তাকবীরসমূহ বিশেষত দ্বিতীয় তাকবীর এক আলিফ-এর চেয়ে বেশি j¤^v করা সহীহ নয় এবং আওয়াজের মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি করা অর্থাত, ইচ্ছা পূর্বক আওয়াজ উঁচু-নীচু করা মারাত্মক অন্যায়। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬০৯/ দারাকুতনী, হাঃ নং ৯০৬ আদ/ দুররুল মুখতার, ১ : ৩৮৭)


পরবর্তী পাঠ দেখতে ক্লিক করুন


Post a Comment

0 Comments