আমাদের দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ




১. আন্তরিকতা: দোয়ার মধ্যে অকপটতা বা আন্তরিকতা থাকা। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আল্লাহ তায়ালার আমাদের দোয়া করার সময় আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দোয়ার মধ্যে আন্তরিকতা থাকা মানে হল আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস থাকা, অর্থাৎ আপনাকে মনে রাখতে হবে তিনি আপনার সকল ধরনের চাহিদা এবং প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। এবং আপনাকে লোক দেখানো দোয়া করাকে পরিত্যাগ করতে হবে।

২. গুনাহের জন্য অনুতাপ: কৃত গুনাহ এর জন্য অনুতাপ করতে হবে এবং দ্বীনের পথে ফিরে আসতে হবে। দোয়া কবুল না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি হল গুনাহ। সুতরাং দোয়া করার পূর্বে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. বিনয়ী: বিনয়ী হয়ে নিজেকে অবনমিত রেখে আল্লাহর পুরস্কারের জন্য আশা করা এবং তার শাস্তিকে ভয় করে দোয়া করা। এবং অন্তরাত্মা থেকে এই দোয়া করা।

৪. ধৈর্য :তরিঘরি না করে ব্যস্ত বা বিরক্ত না হয়ে পুনরাবৃত্তি করে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী দোয়ার মধ্যে একটি জিনিস তিন বার করে চাওয়া উত্তম।

৫. সুসময়ে দোয়া: সুখের সময়ে দোয়া করা এবং প্রচুর সময় নিয়ে দোয়া করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহকে সুসময়ে স্মরণ করতে বলেছেন। আর এতে করে আল্লাহ আমাদের কষ্টের সময় স্মরণ করবেন।

৬. আল্লাহর গুনবাচক নাম: দোয়ার শুরুতে এবং দোয়ার শেষে আল্লাহ তায়ালার সুন্দর সুন্দর নাম এবং তার মহিমান্বিত গুণাবলীর দ্বারা আল্লাহকে ডাকার মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে চাওয়া।

৭. সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতিতে দোয়া করা:  দোয়া করার ক্ষেত্রে স্পষ্ট এবং সংক্ষিপ্ত অথচ দ্যোতক অর্থবহ শব্দ নির্বাচন করা উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দোয়া হল সর্বোত্তম দোয়া। তবে একজন ব্যক্তি তার চাহিদা অনুযায়ী তার নিজস্ব ভঙ্গিতে দোয়া করতে পারবে।

⚠️⚠️ দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ  ⚠️⚠️

১) কিবলাহের মুখোমুখি হয়ে দোয়া করা।

২) পাক-পবিত্র হয়ে দোয়া করা।

৩) আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে দোয়া শুরু করা।

৪) হাত বাড়িয়ে দোয়া করার নির্দেশ রয়েছে।

৫) দোয়া কবুল হতে সাহায্য করে এমন উত্তম সময় এবং উত্তম স্থান গুলোর সন্ধান করা।

√√দোয়া কবুল হতে সাহায্য করে এমন সময়√√

® ফজরের আগে

® শেষ রাত্রিতে অর্থাৎ রাতের তৃতীয় অংশে, 

® জুম্মার দিনে, 

® মুষল ধারে বৃষ্টির সময়  

® আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দোয়া কবুল হয়।

দোয়া কবুল হওয়ার সর্বোত্তম স্থান হল মসজিদ বিশেষ করে মসজিদ আল-হারাম [মক্কায়]।

√√দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি;

® যখন কেউ কারও দ্বারা নির্যাতিত হয় অর্থাৎ মজলুম ব্যক্তি, 

® যখন কেউ ভ্রমণ করে তার দোয়া কবুল হয়, 

® রোযাদার ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় এবং যখন 

® একজন মুসলমান কোন অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দোয়া করে তার দোয়া কবুল হয়।

√√ যেসব কারণে দোয়া কবুল হয় না √√

® যখন দোয়া দুর্বল হয়, অর্থাৎ দোয়ার পিছনে খারাপ কোন উদ্দেশ্য জড়িত থাকে বা অনুচিত কিছু জড়িত থাকে অথবা এমন কিছু আল্লাহর কাছে চাওয়া যার অনুমোদন আল্লাহ তায়ালা দেননি। 

® যখন কেউ উদাসীন বা হতাশ ভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন অর্থাৎ দোয়ার মধ্যে তার কোন মনোযোগ থাকে না, তখন তার দোয়া কবুল হয় না। 

® এমন কোন কাজ করছেন যা আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন। 

® হারাম সম্পদ ভোগ, দোয়া কবুল না হওয়ার সবচেয়ে বড় একটি কারণ। 

® দোয়ার ফলাফল প্রাপ্তিতে তরিঘরি করার কারণেও দোয়া কবুল হয়না।

® দোয়াকে শর্তাধীন করা, যেমন, হে আল্লাহ, যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তবে আমাকে ক্ষমা কর। 

Post a Comment

0 Comments